‘ইলেকশন হবে, ঠেকানোর ক্ষমতা কারও নেই’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের জনগণ সঙ্গে থাকলে নির্বাচন হবে। ইলেকশন ঠেকানোর মতো কারও কোনো শক্তি নেই। এই দেশটা আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। সে কারণে এ দেশের মানুষের জন্য কাজ এবং উন্নয়ন করা দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে মনে করি।

রোববার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সদ্য সমাপ্ত বিমসটেক সম্মেলন নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যদি এ দেশের উন্নয়ন চায় তাহলে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। যদি আবার আমরা ক্ষমতায় যেতে পারি তাহলে এ দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখব এবং ২০২১ সালে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ উন্নত জীবন পাবে। আর আমরা যদি ক্ষমতায় না আসতে পারি তাহলে যারা এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন তারা আবার ক্ষমতায় আসবে। তারা আবার দেশের সম্পদ লুটপাট করবে এটাই বোধ হয় ভালো।

নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে সংবিধানে বিধান সংরক্ষিত আছে। আমরা বহু অভিজ্ঞতা নিয়েছি। মার্শাল ল’ দেখলাম। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেখলাম। কারে বসাবো, বসলে তো চেয়ার ছাড়ে না। আমরা আর অনির্বাচিত সরকারের হস্তেক্ষেপ দেখতে চাই না।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির সঙ্গে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। বেগম খালেদা জিয়ার সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর আমি তার বাসায় গেলাম। আমার মুখের ওপর দরজা বন্ধ করে দেয়া হলো। ওইদিন থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাদের (বিএনপি) সঙ্গে আর কোনো আলোচনা হতে পারে না।

খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচনে যাবে না বলে বিএনপির এমন ঘোষণা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে গ্রেফতার করা হয়নি। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এতিমদের টাকা চুরির দায়ে। দুর্নীতির মামলায় তিনি কারাগারে। ওনারই পছন্দের ফখরুদ্দিন, মইনউদ্দিনের সময় মামলা দেয়া হয়েছে। দশ বছর ধরে এই মামলা চলেছে। ১৫৪ দিন ধার্য করা হয়েছে। তারা চুরি করলে অনেকেই তাদের পক্ষে। আর আমাদের বেলায় পান থেকে চুন খসলে তোলপাড় শুরু হয়।

তিনি বলেন, কোর্টের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। আর দ্রুত মুক্তি চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে কি আসবে না সেটা তাদের ব্যাপার। এটি তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। আমরা জোর করে কাউকে নির্বাচনে আনতে চাই না।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া আমাদের বিরুদ্ধে প্রায় এক ডজন মামলা দিয়েছিল। আমার একটা মামলাও কিন্তু তোলে নাই। সবগুলো তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে হবে বলে আমি বলেছিলাম। সেগুলো প্রমাণ করতে পারে নাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইভিএম ডিজিটাল বাংলাদেশেরই একটা পার্ট। আমরা এখন টাকা পাঠাচ্ছি অনলাইনে, গাড়ি কিনছি অনলাইনে, সবজি কিনছি অনলাইনে। এটা ঠিক যে প্রযুক্তি আমাদের সবসময়ই সুবিধা করে দেয় তা কিন্তু নয়।

তিনি বলেন, আজকে ইভিএমের বিরুদ্ধে বিএনপি সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। ভোটের রাজনীতিতে কারচুপি করা এটা তো স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে নিয়ে এসেছিল জিয়াউর রহমান। আজকে বিএনপি যখন ভোটের কারচুপি নিয়ে কথা বলে তখন তাদের তো জন্মলগ্নটা দেখা দরকার। কোন জন্মের মধ্যদিয়ে তারা এসেছিল? ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের কথা সবার মনে আছে। যাদের জন্মটাই কারচুপির মধ্যদিয়ে তারা আবার কারচুপি নিয়ে কথা বলে।

তিনি আরও বলেন, ইভিএম নিয়ে তারা অভিযোগ করবেই, কারণ কারচুপির একটা টেকনিক তাদের জানা আছে। বহু টেকনিক তারা ইলেকশন কারচুপিতে জানে। ইভিএম চালু হলে ব্যালট পেপার একটার বদলে দুটো নিতে পারবে না। সে জন্যে তারা আপত্তি জানাচ্ছে।

স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই ভোটের রাজনীতিতে কারচুপি নিয়ে এসেছিলেন বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইভিএম চালু হলে বিএনপি ভোট কারচুপি করতে পারবে না বলেই তারা আপত্তি জানাচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন নির্বাচন চান কি না এমন প্রশ্ন তুলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ড. কামাল গং, যারা একসঙ্গে হয়েছে তারা আদৌ নির্বাচন চায় কি না? কারণ বাংলাদেশে একটা শ্রেশি বসেই থাকে একটা অনির্বাচিত কিছু আসলে, তারা একটা ফ্ল্যাগ পায়। ড. কামাল হোসেনও আন কনটেস্টে জিতে এসেছিলেন। জাতির পিতা একটা আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন, সেই সিটে কেউ কনটেস্ট করে নাই। উনি (ড. কামাল হোসেন) এমপি হয়ে আসলেন। সেই আনকনটেস্টের যিনি এমপি, তিনি আনকনটেস্ট মানতে চান না। নিজেকে আবার সংবিধান প্রণেতা দাবি করেন, এখন আবার সেই সংবিধানও তিনি মানতে চান না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সব মিলিয়ে একটা জোট করেছে, এটা ভালো। বাংলাদেশে তো দল দুটি দল, একটা আওয়ামী লীগ, আরেকটা আওয়ামী লীগ বিরোধী। আওয়ামী লীগ বিরোধীদের তো একটা জায়গা থাকা দরকার। ড. কামাল হোসেন সাহেবের পকেটে সবসময় একটা টিটিট থাকে, উনি যখন একটা গরম বক্তৃতা করেন তখন ওনার প্লেন রেডি থাকে।’

তিনি বলেন, অন্ততপক্ষে একটা ভালো জোট হোক, আমরা নির্বাচনটা কনটেস্ট করি। একটা তো বিকল্প থাকতে হবে। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিকল্পধারা করলেন, সেটা এখন স্বকল্প হয়ে গেছে। আমাদের তো কোনো কিছু হলে সব উত্তরপাড়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। আমি তো মৃত্যুর মুখে আছি সবসময়। একটু আন্দোলন দেখলেই সেটার ঘাড়ে চড়ে সবাই বসতে চায়। যখন আন্দোলন হয় তখন আমি দেখি। তারপর কেউ সেই আন্দোলনের ঘাড়ে যদি কেউ চড়ে, তাকে সরিয়ে দেই। তারাও পড়ে যায়।

শেখ হাসিনা বলেন, সেই আন্দোলন করে যদি কেউ সফল হয় আর যদি উত্তরপাড়া থেকে কেউ আসে- সেটাই তো উনারা চান। সুষ্ঠুভাবে গণতন্ত্র তো তারা চান না।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধের ছবি ব্যবহার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে বলতে চাই, আমাদের দেশেও এই ধরনের ছবি নিয়ে অনেক কিছু হয়েছে। এখন কথাটা হচ্ছে, শিখলো কার কাছ থেকে এরা? আমাদের বিএনপি-জামায়াতের কাছ থেকে এগুলো শিখলো কি-না তারা? বিভিন্নভাবে জামায়াত-বিএনপিও কিন্তু এ ধরনের প্রচার চালিয়েছিল। মিয়ানমার যেটা করেছে এটা অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে দেশটিকে দেয়া বাংলাদেশের তালিকা অনুযায়ী ৩ হাজার লোককে ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে মিয়ানমার।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের যিনি প্রেসিডেন্ট তার সঙ্গে আমার এ বিষয়ে আলোচনা হয়। তাদের সঙ্গে আমাদের যে চুক্তি হয়েছে, সে চুক্তি অনুযায়ী তাদের ৩ হাজার লোকের একটা তালিকা দেয়া হয়েছে, যারা ফিরে যেতে চান। তিনি (মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট) তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত বলে আমাকে জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সাধারণত যখন এই ধরনের (বিমসটেক) একটা আঞ্চলিক গোষ্ঠী তৈরি হয়, তখন সেখানে এ ধরনের দ্বি-পাক্ষিক বিষয়গুলো সেখানে তুলে ধরা যায় না। এতে পরিবেশটা ভালো থাকে। আমরা বঙ্গপোসগারকে ঘিরে যে দেশগুলো সে দেশগুলোর সঙ্গে একটা সমঝোতা ও দেশগুলোর মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি। সার্বিক বিবেচনায় বিমসটেকের সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কিন্তু মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছি। তারা বলে, কিন্তু করতে পারে না। কারণ, করতে গেলে অনেক বাধা আসে।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ আগস্ট) সকালে কাঠমান্ডুতে ৪র্থ ‘বে অব বেঙ্গল ইনেসিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (বিমস্টেক) সম্মেলনে যোগ দিতে নেপাল যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দু’দিনের সরকারি সফর শেষে শুক্রবার দেশে ফিরে আসেন তিনি।

সম্মেলনের ফাঁকে শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে তারা দু’দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে একত্রে কাজ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছেন।






Related News

  • প্রধানমন্ত্রীকে ফখরুল : বিশ্বনেতারা চাইলে কী ক্ষমতায় থাকা যায়
  • চিকিৎসার প্রস্তুতি শুরু খালেদা জিয়ার
  • মওদুদ আহমদ : এক মাসের মধ্যেই রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে
  • কাদের বললেন,এটা কি মামা বাড়ির আবদার
  • প্রতীকী অনশন বিএনপির খালেদার মুক্তির দাবিতে
  • মওদুদ : আন্দোলনের মাধ্যমেই কারামুক্ত করবো খালেদা জিয়াকে
  • আজ খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রিটের শুনানি
  • আ. লীগের শোকজ : ২ কেন্দ্রীয় নেতা, ৩ এমপিসহ ১৪ নেতাকে